রাজস্ব কর্মকর্তা গোপালগঞ্জের আজাদ যেন অধরা!
- আপডেট এর সময় : ০৮:৫৬:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
- / 2005
এলাকায় গন্ডায় গন্ডায় কিনেছে জমি। আইনী ঝামেলা এড়াতে এর সবই করেছেন স্ত্রী ও বাবার নামে। সম্পদের তথ্য গোপন ও দুর্নীতির বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জমা পড়লেও তা অজানা কারণে আলোর মুখ দেখেনি। প্রভাবশালী এই কর্মকর্তার নাম আবুল কালাম আজাদ।
এনবিআরের রাজস্ব কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের সরকারের সমর্থনপুষ্ট কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজসে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের ডজনখানেক অভিযোগ রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে কয়েক দফা তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়েছে বেশকটি অভিযোগ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ নেতা ও ছাত্রলীগের চাপে সেই অভিযোগ নিয়ে তদন্ত হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের বেশকজন কর্মকর্তা জানান, গোপালগঞ্জের পরিচয়ে শেখ সেলিমের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেপরোয়া ঘুষ বানিজ্য চালানোর অভিযোগ রয়েছে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে নিজের পকেট ভারি করেছেন এই রাজস্ব কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ পণ্যর চালান আটকের পর টাকার বিনিময়ে তা পার করিয়ে দিতেন আবুল কালাম আজাদ।বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেট এ থাকাকালীন দুর্নীতির সাগরে ডুব দেন বর্তমানে রাজশাহীতে কর্মরত এই রাজস্ব কর্মকর্তা ।
গোপালগঞ্জের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদের এলাকায় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক। চতুর এই কর্মকর্তা আইনগত ঝামেলা এড়ানোর জন্য তার স্ত্রী ও বাবার নামে গড়েছেন সম্পদ। শশুর বাড়ি এলাকাতেও রয়েছে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি। স্থানীয়রা আরও জানান, নিজ এলাকায় কয়েক গন্ডায় গন্ডায় জমি কিনেছেন আবুল কালাম আজাদ। চলাফেরাতেও রয়েছে আভিজাত্য। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে নিজের সব অপকর্ম আড়াল করেছেন এই রাজস্ব কর্মকর্তা। এছাড়া শরিয়তপুরেও গড়েছেন বেশকিছু সম্পদ। বিয়ষটি স্বীকার করেন আবুল কালাম আজাদের পরিবারের সদস্যরাই।
খোঁজ নিয়ে জানাযায় রাজধানীর মগবাজারে মারভিলার পঞ্চম তলায় বিশাল ফ্ল্যাটে এক স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি। পাশের আরেকটি গলিতে একটি বাড়িতে তার আরেক স্ত্রী থাকেন।
অভিযোগের বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
এনিয়ে এনবিআরের গণমাধ্যম শাখায় যোগাযোগ করা হলে, জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত পরে জানানোর কথা বলেন।



















