রাজনৈতিক প্রভাবে নিজের আখের গুছিয়েছেন জিয়া
- আপডেট এর সময় : ০৮:০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
- / 215
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা ডিভিশনে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমানকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাতআয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাসিবাদের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের নেতা সেজে ফুলে ফেপে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া এই ফ্যাসিস্ট দোসর ৫ই আগস্টের পর পেয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদে পদোন্নতি।
যেখানে তাদের বিরুদ্ধে মিরপুরে ছাত্র জনতার মিছিলে গুলি করে মানুষ হত্যার অভিযোগ ও আন্দোলনে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অর্থ যোগানদাতার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তার পদন্নতি নিয়ে রয়েছে নানান প্রশ্ন।
তার বিরুদ্ধে দুদকে দায়ের হওয়া এক অভিযোগে সম্পত্তির পরিমাণ তুলে ধরা হয়।
১। রূপতি মৌজা, খতিয়ান নং- ২৬৯, ৪ শতাংশ
২। রূপতি মৌজা, বাড়ি ৪ শতাংশ
৩। জোয়া সাহারা, বহুতল ভবন, খতিয়ান নং- ১০৪১৬- দুইটি ফ্ল্যাট
৪। চান্দুলিয়া মৌজা, ৯ তলা বিল্ডিং, তেতুলপাড়, সাভার, ঢাকা। একাধিক ফ্ল্যাট
৫। মাগুরা মৌজা, খতিয়ান নং-৯১৩, সাড়ে পাঁচ শতাংশ
6 মাগুরা হাউজিং এস্টেট, ৩ কাঠা প্লট
৭ লালমাটিয়া অথরিটি কোটা, ১৮৫০ বর্গফুট ফ্ল্যাট
৮। জগদল মৌজা। খতিয়ান নং- ৩০৪৬, ১৫ শতাংশ জমি
৯। শিউলডাঙ্গা মৌজা, খতিয়ান নং- ৫৩৭, ৪০ শতাংশ জমি
১০। জগদল মৌজা, খতিয়ান নং- ৩০৪৬, ৪ শতাংশ জমি
১১। রূপতি মৌজা, খতিয়ান নং-৯৩, ২০ শতাংশ জমি
১২। নিজুনিন্দুয়ালী মৌজা, খতিয়ান নং-৩৩৪৭, ৬ শতাংশ জমি
১৩। রূপতি মৌজা, খতিয়ান নং- ১০৩৬, ১১ শতাংশ জমি
১৪। রূপতি মৌজা, খতিয়ান নং- ১০৩৬ ১১ শতাংশ জমি (দ্বিতীয় দলিলে) নিজের গ্রামের বাড়িতে বানিয়েছেন বাংলো বাড়ি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ফ্যাসিবাদের দীঘ সময়ে তিনি ঢাকার মিরপুর ও মোহম্মদপুর ডিভিশনে পোষ্টিং নেন। মিরপুরের ভূমিদস্যু সাবেক এম পি ইলিয়াস মোল্লার লোক ছিলেন। মোহাম্মদপুরে যুবলীগ-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের নেক্সাসকে তিনি অর্থ সাহায্য দিয়ে নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন। বিগত সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপির নির্বাচনে অর্থ যোগানদাতা ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমান।
জিয়ার দূর্নীতি তদন্তে জাগৃকে গত ৫/১১/২০২৪ তারিখে দুদকের সহকারী পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২) এস, এম রাশেদুল হাসান স্বাক্ষরিত ০০.০১,০০০০,৫০২,০৩,০০৬,২০/৪২২২৫ স্মারকে জিয়ার তথ্য চেয়ে তাগিদ পত্র দেয়া হয়েছে। সেই স্মারকে জিয়ার ব্যক্তিগত নথি; সার্ভিস বহি এবং তার পদোন্নতি সংক্রান্ত সকল রেজুলেশন; গ্রেডেশন লিস্ট/ জোষ্ঠতার তালিকা, জাগৃকের পদোন্নতি সংক্রান্ত নীতিমালার সত্যায়িত ফটোকপি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু দেড় বছরেও জাগৃক কোন তথ্য সরবরাহ করেনি।
চাকুরীর ১৯ বছরের মধ্যে প্রায় ১৬ বছরেই ঢাকায় চাকরি করেছেন তিনি। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ডিভিশনে চাকরি করে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। জিয়া খালিশপুর হাউজিং এষ্টেটের কাগজের মারপ্যাচ ভুল বুঝিয়ে তিনটি প্লট তার স্ত্রীর নামে বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মিরপুর ডিভিশন-২ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ঢাকার মিরপুরের “গৃহসূচনা আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মান প্রকল্পের” ইউরোপ সফরে জিয়াউর রহমানের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ই/এম ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা লিফট সংক্রান্ত কার্যক্রম দেখেন। কিন্তু উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট নয়, ঢাকাতেও কর্মরত নয় এমন একজনকে ইউরোপ ভ্রমণে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা শুরু হয়।
এসব অভিযোগ নিয়ে বেশ সমালোচনা হলেও অজানা কারণে নিশ্চুপ সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান ও আওয়ামী প্রীতি নিয়ে।




















