০৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ০৭:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • / 49

moneyline

দেশের বর্তমান ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, সম্ভাবনাময় কিছু খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে এই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন নয়। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। তবে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর বিশেষ জোর দেন। ‘এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস’ (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের মূল ধারণাকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ের অন্যতম বড় দুর্বলতা। তাই ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

শিল্পের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামোগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশীয় শিল্পকে দ্রুত বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে। অপরদিকে জুট খাতের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির চেয়ে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট-ভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদনে বহুগুণ বেশি আয় সম্ভব। এই খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতে আমরা প্রস্তুত। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’ উক্ত কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইসিফোর-জে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

15 September 2026

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

abc

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট এর সময় : ০৭:৩৩:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দেশের বর্তমান ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি জানান, সম্ভাবনাময় কিছু খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে এই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন নয়। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‌্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

বাণিজ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। তবে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এই লক্ষ্য অর্জনে তিনি শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর বিশেষ জোর দেন। ‘এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস’ (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের মূল ধারণাকে সময়োপযোগী আখ্যা দিয়ে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ের অন্যতম বড় দুর্বলতা। তাই ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

শিল্পের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামোগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশীয় শিল্পকে দ্রুত বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হবে। অপরদিকে জুট খাতের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির চেয়ে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট-ভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদনে বহুগুণ বেশি আয় সম্ভব। এই খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়ন করা দরকার। বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতে আমরা প্রস্তুত। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’ উক্ত কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ইসিফোর-জে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নীতিনির্ধারকেরা উপস্থিত ছিলেন।

15 September 2026

রপ্তানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী