চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমাতে ৩৭ লটের বিশেষ অনলাইন নিলাম
- আপডেট এর সময় : ০৬:১২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / 55
চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ও খালাস না হওয়া কন্টেইনার জট কমাতে বিশেষ অনলাইন নিলামের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। এবারের নিলামে মোট ৩৭ লট পণ্য তোলা হয়েছে, যার দরপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া গত ২ জুন সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে আজ বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে। কাস্টমসের নিলাম শাখা সূত্রে জানা গেছে, এই নিলামে ফেব্রিক্স, হার্ডউড ক্র্যাফট, ভেজিটেবল কাটার, কি-রিং, মেটাল হ্যাঙ্গার, ব্রিকস, নাইফ, রাবার চিপস, ইউপিভিসি ফিটিংস, পিভিসি ওয়াটার পাইপ, সুইমিং পুল পাম্প, ফায়ার অ্যালার্ম কন্ট্রোল প্যানেল, রিলিফ সামগ্রী, কোটেড ডুপ্লেক্স বোর্ড, বিয়ারিং, সার্জিক্যাল মাস্ক এবং চেস্ট ফ্রিজারসহ বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় পণ্য রয়েছে।
আমদানি নীতি ও নিয়ম অনুযায়ী, জাহাজ থেকে পণ্য বন্দর ইয়ার্ডে নামানোর পর আমদানিকারককে ৩০ দিনের মধ্যে তা খালাস করে নিতে হয়। এই নির্ধারিত সময়ে পণ্য না নিলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ থেকে নোটিশ দেওয়া হয় এবং নোটিশের পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যেও পণ্য গ্রহণ করা না হলে—অথবা মিথ্যা ঘোষণার কারণে পণ্য জব্দ হলে—তা নিলামে তোলার আইনি সুযোগ তৈরি হয়। অর্থাৎ, সর্বোচ্চ ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য নিলামে তোলার স্পষ্ট বিধান থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে একদিকে যেমন বন্দরে তীব্র কন্টেইনার জট তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘসময় পণ্য পড়ে থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষও তাদের প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানান, বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা খালাসবিহীন পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে জট কমানোর লক্ষ্যে এখন নিয়মিত নিলামের আয়োজন করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্য ও অনলাইন—দুই ধরনের নিলামের পরিমাণই উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ আল আমিন এই প্রক্রিয়াকে একটি চলমান কার্যক্রম হিসেবে উল্লেখ করে জানান যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা অনুযায়ী নিলামের গতি বাড়ানো হয়েছে, যার মাধ্যমে খালাসবিহীন পণ্য বিক্রি করে সরকার নিয়মিত রাজস্ব আয় করছে।




















