০২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজার, রুপারবাজারে নেই আগের মত রুপ, কষ্টকর জীবনযাপন ৬০ টি শব্দকর পরিবার।

Jakir Hossain
  • আপডেট এর সময় : ১২:২৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 6

মৌলভীবাজার, রুপারবাজারে নেই আগের মত রুপ, কষ্টকর জীবনযাপন ৬০ টি শব্দকর পরিবার।

রুপারবাজারে নেই আগের মত রুপ,কালের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে একটি বটবৃক্ষ। আসে না আগের মত দুরদুরান্ত থেকে দূর্গা পুজার আয়োজকরা ,বসে না বাজারে বাদ্যকররা,শুনা জায় না সেই ঢাক, ঢোল, সানাই, করতাল ও বাঁশির জাদুকরী আওয়াজ। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে বাদ্যক আর বাদ্যযন্ত্রের হাট। অত্যন্ত কষ্টকর জীবনযাপন করছেন সেই রুপারবাজার এলাকায় থাকা প্রায় ৬০ টি শব্দকর পরিবার।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৯নং আমতৈল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সনকাপন গ্রামের প্রাচীন বাজারের নাম রুপারবাজার । দুর্গাপুজা আসার ১৫ দিন আগ থেকে বটবৃক্ষের নিছে বসত, ঢাক , ঢোল ও বাদ্যকের বাজার। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দূর্গাপুজার আয়োজকরা ছুটে আসতো বাদ্যযন্ত্র ও বাদ্যক নিয়ে যাবার জন্য। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে সেই বাজারে জৌলুস। এখন আর আগের মত বসে না বাজার কেউ আসে না তাদের নিতে। বাঙালি সংস্কৃতির এবং উৎসব-পার্বণের হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে এই শব্দকরদের বাদ্যযন্ত্রের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ‘শব্দকর’ বা বাদ্যকর সম্প্রদায়ের মানুষের কদর ও ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায় দূর্গাপুজা আসলেই । ঢাক, ঢোল, সানাই, করতাল ও বাঁশির জাদুকরী শব্দ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ যেন একেবারেই অসম্পূর্ণ। মহাষষ্ঠী থেকে শুরু করে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধর্মীয় আচারে ঢাক-ঢোলের শব্দ আবশ্যক, তাই বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে এই ৫-৬ দিন তাদের ডাক পড়ে সবচেয়ে বেশি।
শব্দকর সম্প্রদায়ে সভাপতি দীনেশ শব্দকর বলেন আগের মত বাজনা পাওয়া যায় না, কেউ নিতে চায় না, আমার বয়স যখন ১১ বছর ছিলো সেই সময় সেথে আমি এই রুপারবাজারে আসতাম আমার বাবা কাকাদের সাথে । এই বাজার থেকে আমাদের অনেক দুরে নিয়ে যেতে দূর্গাপুজায় বাজনা বাজানোর জন্য। সেই সময় একটা দাম পেতাম দূগা মন্ডপে আমাদের কদর করত একটা সম্যান মিলতো এখন আগের মত কদর নেই সম্যানও নেই। সরকার সহযোগীতা করলে আমাদের একটু ভাল হয়।
আধুনিক যুগের প্রযুক্তির আগ্রাসন, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং তীব্র দারিদ্র্যের কারণে এই লোকজ সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। ঐতিহ্যবাহী বাদ্য বাজানোর কাজ কেবল বিভিন্ন পূজা-পার্বণ বা উৎসবের মৌসুমে থাকে। বছরের বাকি সময় তাদের চরম বেকারত্ব ও অর্থাভাবে দিন কাটাতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে এই সম্প্রদায়ের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়। পাশাপাশি সচেতনতা ও অর্থের অভাবে তারা মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও দূরে থাকে। এই জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বংশপরম্পরায় বাদ্যযন্ত্র বাজানো এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য দুর্গাপূজা হলো জীবিকা নির্বাহের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সুযোগ। শব্দকর সম্প্রদায়, যাদের প্রধান পেশা ও পরিচিতি গড়ে উঠেছিল বাদ্যযন্ত্র ও কণ্ঠের মেলবন্ধনে। তাই এই মেলবন্ধন টিকিয়ে রাখতে সরকার সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিবে এমটাই প্রত্যাশা সুবিধাবঞ্চিত এই জনগোষ্ঠী।

12 October 2026

মৌলভীবাজার, রুপারবাজারে নেই আগের মত রুপ, কষ্টকর জীবনযাপন ৬০ টি শব্দকর পরিবার।

আমাদের ফেইসবুক পেইজ

abc

মৌলভীবাজার, রুপারবাজারে নেই আগের মত রুপ, কষ্টকর জীবনযাপন ৬০ টি শব্দকর পরিবার।

আপডেট এর সময় : ১২:২৩:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

রুপারবাজারে নেই আগের মত রুপ,কালের সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে একটি বটবৃক্ষ। আসে না আগের মত দুরদুরান্ত থেকে দূর্গা পুজার আয়োজকরা ,বসে না বাজারে বাদ্যকররা,শুনা জায় না সেই ঢাক, ঢোল, সানাই, করতাল ও বাঁশির জাদুকরী আওয়াজ। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে বাদ্যক আর বাদ্যযন্ত্রের হাট। অত্যন্ত কষ্টকর জীবনযাপন করছেন সেই রুপারবাজার এলাকায় থাকা প্রায় ৬০ টি শব্দকর পরিবার।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৯নং আমতৈল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সনকাপন গ্রামের প্রাচীন বাজারের নাম রুপারবাজার । দুর্গাপুজা আসার ১৫ দিন আগ থেকে বটবৃক্ষের নিছে বসত, ঢাক , ঢোল ও বাদ্যকের বাজার। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দূর্গাপুজার আয়োজকরা ছুটে আসতো বাদ্যযন্ত্র ও বাদ্যক নিয়ে যাবার জন্য। কালের পরিক্রমায় হারিয়ে গেছে সেই বাজারে জৌলুস। এখন আর আগের মত বসে না বাজার কেউ আসে না তাদের নিতে। বাঙালি সংস্কৃতির এবং উৎসব-পার্বণের হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে এই শব্দকরদের বাদ্যযন্ত্রের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ‘শব্দকর’ বা বাদ্যকর সম্প্রদায়ের মানুষের কদর ও ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায় দূর্গাপুজা আসলেই । ঢাক, ঢোল, সানাই, করতাল ও বাঁশির জাদুকরী শব্দ ছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই প্রধান ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ যেন একেবারেই অসম্পূর্ণ। মহাষষ্ঠী থেকে শুরু করে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত প্রতিটি ধর্মীয় আচারে ঢাক-ঢোলের শব্দ আবশ্যক, তাই বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে এই ৫-৬ দিন তাদের ডাক পড়ে সবচেয়ে বেশি।
শব্দকর সম্প্রদায়ে সভাপতি দীনেশ শব্দকর বলেন আগের মত বাজনা পাওয়া যায় না, কেউ নিতে চায় না, আমার বয়স যখন ১১ বছর ছিলো সেই সময় সেথে আমি এই রুপারবাজারে আসতাম আমার বাবা কাকাদের সাথে । এই বাজার থেকে আমাদের অনেক দুরে নিয়ে যেতে দূর্গাপুজায় বাজনা বাজানোর জন্য। সেই সময় একটা দাম পেতাম দূগা মন্ডপে আমাদের কদর করত একটা সম্যান মিলতো এখন আগের মত কদর নেই সম্যানও নেই। সরকার সহযোগীতা করলে আমাদের একটু ভাল হয়।
আধুনিক যুগের প্রযুক্তির আগ্রাসন, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব এবং তীব্র দারিদ্র্যের কারণে এই লোকজ সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। ঐতিহ্যবাহী বাদ্য বাজানোর কাজ কেবল বিভিন্ন পূজা-পার্বণ বা উৎসবের মৌসুমে থাকে। বছরের বাকি সময় তাদের চরম বেকারত্ব ও অর্থাভাবে দিন কাটাতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে এই সম্প্রদায়ের শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়। পাশাপাশি সচেতনতা ও অর্থের অভাবে তারা মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকেও দূরে থাকে। এই জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, স্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বংশপরম্পরায় বাদ্যযন্ত্র বাজানো এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য দুর্গাপূজা হলো জীবিকা নির্বাহের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সুযোগ। শব্দকর সম্প্রদায়, যাদের প্রধান পেশা ও পরিচিতি গড়ে উঠেছিল বাদ্যযন্ত্র ও কণ্ঠের মেলবন্ধনে। তাই এই মেলবন্ধন টিকিয়ে রাখতে সরকার সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিবে এমটাই প্রত্যাশা সুবিধাবঞ্চিত এই জনগোষ্ঠী।

12 October 2026

মৌলভীবাজার, রুপারবাজারে নেই আগের মত রুপ, কষ্টকর জীবনযাপন ৬০ টি শব্দকর পরিবার।