সংসদে উঠছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল
মাদক কারবারিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- আপডেট এর সময় : ০৭:৪৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
- / 85
সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত এক আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ বিনির্মাণে তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যুবসমাজকে মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র মাদক কারবারিদের সাথে ফাইট করলেও তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। এই আইনগত শূন্যতা ও আধুনিক চ্যালেঞ্জ দূর করতে আগামী ২-১ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল’ উত্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে এই বাহিনীকে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন অর্গান হিসেবে শক্তিশালী করা হবে এবং কর্মকর্তাদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণসহ আধুনিক অস্ত্র দেওয়া হবে।
মামলাজট ও আইনি প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা পেন্ডিং রয়েছে। বিচারক স্বল্পতার কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতি উত্তরণে সংশোধিত আইনে ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ স্থাপনের কঠোর বিধান রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া মাদক নিখুঁতভাবে শনাক্তকরণের জন্য আধুনিক ‘ডগ স্কোয়াড’ সংযোজন, আসামিদের জন্য ‘হাজতখানা’ স্থাপন এবং মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষার জালিয়াতি রুখতে প্রতিটি জেলায় একটি করে উন্নত কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপনের আইনি প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিজিটাল অপরাধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাদক ও জুয়ার অপরাধ সাইবার স্পেস ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার আড়ালে স্থানান্তরিত হয়েছে। ১৮৬৭ সালের প্রাচীন জুয়া প্রতিরোধ আইন দিয়ে বর্তমান যুগের আধুনিক অনলাইন বেটিং ও ক্রিপ্টো-অপরাধ দমন সম্ভব নয়। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে বেনামী সিমের মাধ্যমে অর্থ পাচার কঠোরভাবে ট্র্যাকিংয়ের জন্য এনটিএমসির পরামর্শে আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকার শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, বরং মূল হোতা বা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন সংশোধনীতে মাদকের কালো টাকা দিয়ে অর্জিত সমস্ত অবৈধ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কঠোর ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ধরনের ৯টি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আরও ২৩টি গুরুতর অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
ঢাকার উত্তরায় সিনথেটিক ড্রাগ ‘কিটামিন’র ল্যাবরেটরি আবিষ্কারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও পুলিশের সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন। মাদকাসক্তদের অপরাধী না ভেবে রোগী হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তাদের সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনতে বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। মাদক দূরীকরণে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক ও সুশীল সমাজসহ সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে মন্ত্রী ওয়ানমি স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে মাদকবিরোধী বিশেষ স্টল পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ও অধিদপ্তরের থিম সং প্রদর্শন করা হয় এবং মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত একজন ব্যক্তি তাঁর অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও বিশেষ স্যুভেনিরের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেন। উল্লেখ্য, দিবসটি উপলক্ষ্যে আজ রাজধানীর রমনা ও সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে একটি র্যালি বের করা হয়, যার এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া’।




















