ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১৪১ কোটি টাকা পাচার: দুদকের জালে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান
- আপডেট এর সময় : ০৪:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 24
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসির বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাত এবং তা বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে। মঙ্গলবার দুদকের নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই তিন মামলায় মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, আরামিট সিমেন্ট পিএলসি সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে কোনো প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয় না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দাখিল করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, জুবলী রোড শাখা থেকে ঋণ গ্রহণ করে। মোট ২৭টি ডিলের মাধ্যমে উত্তোলিত ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর ও রূপান্তরের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করা হয়। এ ক্ষেত্রে সাইফুজ্জামান চৌধুরী তৎকালীন মন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং আরামিট গ্রুপের কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে ভুয়া সরবরাহকারী দেখিয়ে ঋণ অনুমোদন করান। দুদকের অভিযোগে তাকে এই অর্থ আত্মসাতের ‘আলটিমেট বেনিফিশিয়ারি’ ও অন্যতম হোতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দায়ের করা তিন মামলার মধ্যে প্রথম ঘটনায় ২০১৮ সালের মার্চে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে একটি ডিলের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। দ্বিতীয় ঘটনায় ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) কামাল বাজার শাখার ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের ১৭টি ডিলের মাধ্যমে ৪১ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৬ জন এবং তৃতীয় ঘটনায় ২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ইউসিবি সদরঘাট শাখার মাধ্যমে ৯টি ডিলে ৪২ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলায় সাইফুজ্জামান চৌধুরী ছাড়াও তার স্ত্রী তথা আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ইউসিবি পিএলসির সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামানকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরামিট সিমেন্টের সিএফও মোহাম্মদ শাহ আলম, এজিএম একেএম মারুফ এবং কোম্পানির এজিএম ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পিএস মো. আব্দুল আজীজ (যাকে ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের ভুয়া মালিক সাজানো হয়েছিল) মামলায় আসামি হয়েছেন।
অনিয়মে সহযোগিতার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাকেও এসব মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক জুবলী রোড শাখার ১৯ জন কর্মকর্তা এবং ইউসিবি ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ ও কামাল বাজার শাখার ৫ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, মালামাল সরবরাহ না হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংক কর্মকর্তারা জেনেশুনে ভুয়া অফিস নোট ও পে-অর্ডার ইস্যু ইন্সট্রাকশনে স্বাক্ষর করে সরাসরি এই অর্থ আত্মসাত ও পাচারে সহযোগিতা করেছেন।




















