২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনে বিজিএফসিএলের বড় উদ্যোগ
- আপডেট এর সময় : ০৩:১৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনে বিজিএফসিএলের বড় উদ্যোগ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনিক ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনে বিজিএফসিএলের বড় উদ্যোগ
দেশে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়াতে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে নতুন ছয়টি কূপ খনন এবং স্থগিত থাকা আটটি কূপের ওয়ার্কওভার (সংস্কার) সম্পাদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানান, সরকারের সারা দেশে মোট ১৫০টি কূপ খননের বিশাল মহাপরিকল্পনা রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বিজিএফসিএল বর্তমানে পাঁচটি ভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় আরও ৯টি নতুন কূপ খনন এবং ১২টি বিদ্যমান কূপে ওয়ার্কওভারের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সফল হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন আরও ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হবে। অন্যদিকে, ২০৩৫ সালের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ১৯টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিজিএফসিএল বর্তমানে দেশের মোট ছয়টি গ্যাসক্ষেত্র—তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি একাই দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদিত গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং মোট সার্বিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ নিশ্চিত করে থাকে। ভবিষ্যতে আরও নতুন সম্ভাবনাময় গ্যাস কাঠামোর অনুসন্ধানে ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৩ডি (ত্রিমাত্রিক) সাইসমিক জরিপ পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে হবিগঞ্জে ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও তিতাসের উত্তর-পশ্চিম ও নরসিংদীর উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ২ডি ও ৩ডি জরিপ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় চায়না প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির (সিসিডিসি) মাধ্যমে ৩,৬০১ মিটার গভীরতায় তিতাস-২৮ কূপটি খনন করা হয়। এই কূপটি চালুর ফলে ইতোমধ্যে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। বর্তমানে নতুন গ্যাসের সন্ধানে তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ নামে আরও দুটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ পরিচালনা করছে বিজিএফসিএল।



















